Kaliprasanna Singha Biography In Bengali: কালীপ্রসন্ন সিংহ এর জীবন পরিচয়

Kaliprasanna Singha
Kaliprasanna Singha

Kaliprasanna Singha Biography In Bengali: কালীপ্রসন্ন সিংহ এর জীবন পরিচয়

কালীপ্রসন্ন সিংহ এর জন্ম স্থান ও পিতামাতা: Birth Place And Parents Of Kaliprasanna Singha

কালীপ্রসন্ন সিংহ (Kaliprasanna Singha) উনবিংশ শতাব্দীর বাংলার নবজাগরণের অন্যতম পথিকৃৎ কালীপ্রসন্ন ১৮৪০ খ্রিঃ কলকাতার জোড়াসাঁকো অঞ্চলের বিখ্যাত জমিদার বংশে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম নন্দলাল সিংহ।

কালীপ্রসন্ন সিংহ এর শিক্ষাজীবন: Kaliprasanna Singha’s Educational Life

বাল্যবয়স থেকেই কালীপ্রসন্ন (Kaliprasanna Singha) অসাধারণ মেধাবী ছিলেন। বালকের মাথায় বৃদ্ধের মস্তিষ্ক বললে যা বােঝায় তিনি ছিলেন তাই। অতি অল্প বয়সেই বিভিন্ন ভাষা ও বিষয়ে ব্যুৎপত্তি লাভ করেন। হিন্দু কলেজে ভর্তি হয়েও প্রথাবদ্ধ পড়া সম্পূর্ণ করতে পারেন নি। তবে কলেজের অসম্পূর্ণ পড়া সম্পূর্ণ করেছিলেন একজন ইংরাজ গৃহশিক্ষকের সাহায্যে।

কালীপ্রসন্ন সিংহ এর প্রথম জীবন: Kaliprasanna Singha’s Early Life

বিদগ্ধ বন্ধুদের সঙ্গে মিলিত হয়ে মাত্র ১৩ বছর বয়সেই বিদ্যোৎসাহিনী সভা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এই সভা প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ ছিল স্বদেশের সর্ববিধ উন্নতি বিধান। তাই সভ্যদের আলােচনার মুখ্য বিষয়ই ছিল ভাষা সাহিত্য ও সমাজের নানাবিধ সমসা।

আরো পড়ুন: নবীনচন্দ্র সেন এর জীবন পরিচয়

সনাতনপন্থী সমাজের গোঁড়ামি ও কুসংস্কার তাঁকে পীড়িত করত। দেশবাসীর মধ্যে শিক্ষার প্রসার ও প্রগতিমূলক চিন্তার প্রসার ঘটাবার উদ্দেশ্যে প্রকাশ করেন সভার মুখপত্র বিদ্যোৎসাহিনী পত্রিকা (১৮৫৫ খ্রিঃ)। পরের বছর গড়ে তােলেন বিদ্যোৎসাহিনী থিয়েটার।

কালীপ্রসন্ন সিংহ এর কর্ম জীবন: Kaliprasanna Singha’s Work Life

বস্তুতঃ এসব উদ্যোগের মাধ্যমেই বাংলার সাংস্কৃতিক জীবনে কালীপ্রসন্নের (Kaliprasanna Singha) আর্বিভাব সূচিত হয়। শিক্ষার প্রসার ও উন্নতির উদ্দেশ্যে পরে তার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় সর্বতত্ত্ব প্রবেশিকা, বিবিধার্থ সংগ্রহ ও পরিদর্শক প্রভৃতি পত্রিকা। প্রাণিতত্ত্ব, ভূ – তত্ত্ব, শিল্প সাহিত্য ও সমাজ ছিল এই সকল পত্রিকার প্রধান বিষয়।

দেশে নীলকর সাহেবদের অত্যাচার এবং অসহায় চাষীদের দুরবস্থা অবলম্বনে রায়বাহাদুর দীনবন্ধু মিত্র রচনা করেছিলেন নীলদর্পণনাটক, ১৮৬০ খ্রিঃ। এইনাটক বহুভাবে ইতিহাস সৃষ্টি করেছিল। মাইকেল মধুসূদন নাটকটি ইংরাজিতে অনুবাদ করেছিলেন। বই আকারে প্রকাশ করেছিলেন পাদ্রী লঙ সাহেব। এর জন্য ইংরাজ সরকারের আদালতে তাকে অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হতে হয়েছিল।

জাতীয় চেতনায় উদ্বুদ্ধ কালীপ্রসন্ন লঙ সাহেবের জরিমানার হাজার টাকা আদালতে জমা দিয়েছিলেন। সমাজ হিতৈষী কালীপ্রসন্ন এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে হিন্দু প্যাট্রিয়ট পত্রিকার সম্পাদক হরিশ মুখােপাধ্যায় ও তার পরিবারবর্গকে; মুখার্জীস ম্যাগাজিন – এর শম্ভুচন্দ্র মুখার্জী, শিক্ষক রিচার্ডসন ও লঙসাহেব প্রমুখদের বিভিন্ন সময়ে নানাভাবে সাহায্য করেছিলেন।

আরো পড়ুন: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর জীবন পরিচয়

বিদ্যাসাগর প্রবর্তিত বিধবা বিবাহ প্রসারের তিনি ছিলেন একজন প্রধান উৎসাহী সমর্থক। তিনি বিধবা বিবাহকে জনপ্রিয় করবার জন্য পুরস্কার ঘােষণা করেছিলেন। বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহ বন্ধ করার জন্য বিদ্যাসাগর দেশব্যাপী যে আন্দোলন আরম্ভ করেছিলেন তাতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন কালীপ্রসন্ন।

কালীপ্রসন্ন সিংহ এর রচনা: Written by Kaliprasanna Singha

সাহিত্যক্ষেত্রে প্রবেশ করেছিলেন প্রধানতঃ নাটক রচনার মাধ্যমে। তার রচিত বাবু নাটক প্রকাশিত হয় ১৮৫৪ খ্রিঃ। পরবর্তী তিন বছরে প্রকাশিত হয় বিক্রমাের্বশী, সাবিত্রী সত্যবান ও মালতীমাধব। তৎকালীন বাবুসম্প্রদায়ের রুচিবিকৃতি ও সাধারণ সমাজব্যবস্থার ত্রুটিপূর্ণ দিকগুলির প্রতি কটাক্ষ প্রকাশকরেছেন বিদ্রুপাত্মক রচনাহুতােম প্যাঁচার নক্সা প্রকাশ করে (১৮৬২ খ্রিঃ)। হুতােম প্যাঁচা ছিল তারই ছদ্মনাম।

নানাদিক থেকেই এই গ্রন্থ স্মরণীয়। বিশেষ করে সংস্কৃত শব্দ কন্টকিত ভাষার পরিবর্তে সাহিত্যে কথ্য ভাষার প্রচলন করার লক্ষ্যে এই গ্রন্থটিই ছিল প্রথম পদক্ষেপ এবং একারণেই বাংলা সাহিত্যে স্মরণীয়।

আরো পড়ুন: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জীবনী

মূল সংস্কৃত মহাভারত বাংলায় অনুবাদ করে নিজ খরচে তা প্রকাশ করা কালী প্রসন্ন সিংহের জীবনের শ্রেষ্ঠ কীর্তি। এই মহৎ কাজে তাকে উৎসাহিত করেছিলেন বিদ্যাসাগর স্বয়ং। তারই তত্ত্বাবধানে এবং হেমচন্দ্র ভট্টাচার্য, ভুবনচন্দ্র মুখােপাধ্যায়, নবীনকৃষ্ণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ পণ্ডিতের সাহায্যে কালীপ্রসন্ন এই শ্রমসাধ্য দুরূহ কর্ম সম্পাদন করেছিলেন।

কালীপ্রসন্ন সিংহ এর মৃত্যু: Kaliprasanna Singha’s Death

খুবই স্বল্প পরিসর জীবনে কালীপ্রসন্ন (Kaliprasanna Singha) যেসব কাজ করেছিলেন তা বিস্ময়ের উদ্রেক করে। সমসাময়িক কালে তিনি ভাষা সাহিত্য ও সমাজ জীবনে প্রচন্ড আলােড়ন সৃষ্টি করতে সমর্থ হয়েছিলেন। তিনি সরকার কর্তৃক অনারারী ম্যাজিস্ট্রেট ও জাস্টিস অব দ্য পীস নিযুক্ত হয়েছিলেন। মাত্র ত্রিশ বছর বয়সে ১৮৭০ খ্রিঃ ২৪ শে জুলাই কালীপ্রসন্ন পরলোক গমন করেন।