ADS বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন: [email protected]

সুস্থ ও রোগ মুক্ত থাকতে পেঁপে খান – জানুন পেঁপের উপকারিতা ও পুষ্টি গুন

পেঁপের উপকারিতা ও পুষ্টি গুন
পেঁপের উপকারিতা ও পুষ্টি গুন

পেঁপের উপকারিতা ও পুষ্টি গুন: আমাদের সারা দেশে বা সারা বিশ্বে পেঁপের ব্যবহার খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত জায়গাতে পেঁপে পাওয়া যায়। আয়ুর্বেদ এর মতে পেঁপে হলো নানান রোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভেষজ ঔষধি। পেঁপে আমাদের শরীর কে সুস্থ রাখতে বিশেষ উপকার করে থাকে।

সে গুলি হল কোষ্টকাঠিন্য, চর্মরােগ , কৃমিনাশক, অম্বল ও অজীর্ণ রােগে থেকে মুক্তি দেয়, ওজন নিয়ন্ত্রণ, হজম প্রক্রিয়ার উপকার করে, পাকস্থলীর দাহ, বায়ু গােলক, ব্রণ, অম্লপিত্ত, বদহজম প্রভৃতি অসুখও এই চূর্ণ নিয়মিত খেলে সেরে যায়। পেঁপে খেলে স্ট্রেস কমে ইত্যাদি।

সুস্থ ও রোগ মুক্ত থাকতে পেঁপে খান – জানুন পেঁপের উপকারিতা ও পুষ্টি গুন

পেঁপের উপকারিতা ও পুষ্টি গুন:

পেঁপে আমাদের যে সমস্ত উপকার করে থাকে, আসুন জানা যাক রােগ আরােগ্যে কাঁচা পেঁপের ব্যবহার ও উপকারিতা গুণ গুলি-

১। অম্বল ও বদহজ: প্রতিদিন দুপুরে ভাত খাওয়ার পর এবং রাতে রুটি খাওয়ার পর এক টুকরাে কাঁচা পেঁপে ভাল করে চিবিয়ে খেয়ে এক গ্লাস জল খেলে সকালে পেট পরিষ্কার হয়, অম্বল ও বদহজমের কষ্ট দূর হয়।

২। দাদ ও চর্মরােগ: ১০ ফোটা করে কাঁচা পেঁপের দুধ বা আঠা প্রতিদিন অল্প জলে মিশিয়ে খেলে দাদ ও চর্মরােগ সারে, কৃমি নাশ হয়।

৩। টিউমার এবং বায়ু: ২০ থেকে ২৫ ফোঁটা কাঁচা পেঁপের আঠা অল্প চিনির সঙ্গে মিশিয়ে কিছু দিন নিয়ম করে খেলে পিলে (প্লীহা) রােগ সারে ও পেটের ভিতর টিউমার এবং বায়ু রােগে খুব উপকার পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন: করোলা বা উচ্ছের উপকারিতা ও পুষ্টি গুন

৪। পিলের রোগে: দুই চা চামচ কাঁচা পেঁপের আঠা ২ চা চামচ চিনি মিশিয়ে কিছুদিন ধরে দিনে তিনবার করে খেলে পিলের আয়তন ক্রমশ কমে যায়।

৫। অম্বল ও অজীর্ণ: দুই চা চামচ পেঁপের আঠায় ১ চা চামচ চিনি মিশিয়ে দুধের সঙ্গে খেলে অম্বল ও অজীর্ণ রােগে উপকার হয়।

৬। স্তনের দুধে: যে সব মায়েদের সদ্য বাচ্চা হয়েছে কাঁচা পেঁপের তরকারি নিয়মিত খেলে তাদের স্তনের দুধ বাড়বে।

৭। কোষ্টবদ্ধতা: কাঁচা পেঁপে বা পেঁপের গাছের আঠা পুরােনাে অজীর্ণ রােগে, পেটের অসুখে (অতিসার), পুরনাে পেটের অসুখে কোষ্টবদ্ধতা (মল না হওয়া) প্রভৃতি রােগের পক্ষে উপকারী।

৮। জুর ও দুর্বলতার: পিলে ও লিভার বেড়ে যাওয়া, তার সঙ্গে জুর ও দুর্বলতার ওষুধ হিসেবে দিনে ও রাতে খাওয়া-দাওয়ার পর নিয়মিত ৫/১০ ফোটা করে পেঁপের আঠা খেলে উপকার পাওয়া যায়।

৯। আঠার গুণ: ওষুধ হিসেবে কাচা পেঁপের গুণ পাকা পেঁপের চেয়ে বেশি। পেপটিন বা পেঁপের আঠার গুণ অশেষ।

১০। গর্ভবতী: গর্ভবতী মহিলাদের এবং যাঁদের মাসিক বেশি হয় তাদের পেঁপে খাওয়া উচিত নয়, কারণ পেঁপে রজঃ (রক্ত) ও ভুণ নিঃসারক।

১১। গ্যাস্ট্রিক আলসার: বড় কাঁচা পেঁপে চিরে নিয়ে তার নীচে একটি কাপ বা ডিশে রাখুন। এইভাবে দুধ বের করে নিন। এই দুধ বা আঠা তৎক্ষণাৎ রােদে শুকিয়ে নিন। এই আঠা গুড়াে করে শিশিতে ঢাকনা বন্ধ করে রাখুন। গ্যাস্ট্রিক আলসার বা গ্যাস্ট্রিকের অসুখে এই চূর্ণ আশ্চর্য ভাল ফল দেয়। পাকস্থলীর দাহ, বায়ু গােলক, ব্রণ, অম্লপিত্ত, বদহজম প্রভৃতি অসুখও এই চূর্ণ নিয়মিত খেলে সেরে যায়।

১২। অজীর্ণতা: আধ চামচ পেঁপের দুধ চিনি মিশিয়ে খেলে অজীর্ণতা সারে।

১৩। কৃমিনাশক: কাঁচা পেঁপের বীজ কৃমিনাশক।

১৪। গর্ভপাত: এই বীজ খেলে মেয়েদের ঋতু নিয়মিত হয় এবং বেশি পরিমাণে খেলে গর্ভপাত হয়।

১৫। জ্বর: পেঁপের পাতা হার্ট সবল করে এবং জ্বর নাশ করে।

১৬। হৃদরােগে: পেঁপের পাতা জলে সেদ্ধ করে চায়ের মতাে তৈরী করে খাওয়ালে হৃদরােগে ভাল ফল দেয়।

১৭। ওজন নিয়ন্ত্রণে: পেঁপেতে ক্যালোরি কম থাকে। তাই যারা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান, তাদের পক্ষে পেঁপে অত্যন্ত উপকারী।

১৮। কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ: পেঁপেতে রয়েছে ফাইবার, ভিটামিন সি ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টস, এবং যা কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।

১৯। চোখের জন্য: পেঁপেতে রয়েছে ভিটামিন-এ, ফ্ল্যাভােনয়েডস যেমন: বিটা ক্যারােটিন, জিয়াজানথিন, সিপটোজানথিন, লিউটিয়েন, যা চোখের জন্য অত্যন্ত দরকারী।

২০। ডায়বেটিস: খেতে মিষ্টি হলেও পাকা পেঁপে ডায়বেটিস রােগীদের জন্য উপকারী। কারণ এতে মিষ্টির মাত্রা খুবই কম। পেঁপেতে থাকা ভিটামিন সফাইটো নিউট্রিয়েন্টস হৃদরােগ নিয়ন্ত্রণ করে।

২১। আথ্রাইটিস: আথ্রাইটিস রােগীদের জন্য পেঁপে খুব ভাল।

২২। রােগ প্রতিরােধ: প্রচুর মাত্রায় ভিটামিন সি থাকার ফলে দেহে রােগ প্রতিরােধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।

২৩। হজম প্রক্রিয়া: পেঁপেতে রয়েছে ডায়জেসটিভ এনজাইম প্যাপেইন, যা হজম প্রক্রিয়ার জন্য খুব উপকারী।

২৪। মেনস্ট্রয়াল ব্যথায়: পেঁপেতে থাকা প্যাপেইন নামক এনজাইম রক্ত চলাচল ভাল করে। তাই পেঁপে খেলে মেনস্ট্রয়াল ব্যথায় খানিকটা আরাম দেয়।

২৫। চুলের বৃদ্ধি: ত্বককে স্বাস্থােজ্জ্বল রাখার পাশাপাশি চুলের জন্য খুব ভাল। খুশকি হলে পেঁপে লাগালে ভালাে ফল পাওয়া যায়। এছাড়াও চুলের বৃদ্ধি ঘটাতে ও চুলকে শক্ত করতে পেঁপে কার্যকরী।

২৬। বয়সজনিত সমস্যা: পেঁপেতে যেহেতু ভিটামিন সি, ভিটামিন ই আর অ্যান্টি অক্সিডেন্টস রয়েছে, তাই পেঁপে খেলে ত্বকে বলিরেখা বা বয়সজনিত সমস্যা দূরে রাখা যায়।

২৭। স্ট্রেস কমে: ভিটামিন থাকার ফলে পেঁপে খেলে স্ট্রেস কমে। সারাদিনের ক্লান্তি কাটাতে এক প্লেট পেঁপে ম্যাজিকের মতাে কাজ করে।

পেঁপের পুষ্টি গুন – Benefits And Nutritional Value Of Papaya

প্রতি ১০০ গ্রামে পেঁপেতে থাকে এই উপাদান গুলি-

  • এনার্জি – ৩৯ কিলাে কালােরি।
  • ভিটামিন সি -১০৩ শতাংশ।
  • কার্বোহাড্রেট – ৯.১ গ্রাম।
  • ভিটামিন ই – ৫ শতাংশ
  • প্রােটিন – ০.৬১ গ্রাম
  • ভিটামিন কে – ২ শতাংশ।
  • ডায়েট তন্তু – ১.৮০ গ্রাম।
  • সােডিয়াম – ৩ মিলিগ্রাম
  • ফ্যাট – ০.১৪ গ্রাম।
  • পটাসিয়াম – ২৫৭ মিলিগ্রাম
  • কোলেস্টেরল – নেই
  • ক্যালসিয়াম – ২৪ মিলিগ্রাম।
  • থায়ামিন – ০.০২৭ মিলিগ্রাম
  • আয়রন – ০.১০ মিলিগ্রাম।
  • ভিটামিন এ – ৩৬ শতাংশ
  • ম্যাগনেসিয়াম – ১০ মিলিগ্রাম

সতর্কতা:

(ক) কাঁচা পেঁপের শাঁস, দানা, রস ও পাতায় কারপাইন নামে অ্যালকালয়েড থাকে। শরীরে গেলে ক্ষতি হতে পারে। ভালাে করে সেদ্ধ করলে নষ্ট হয়।

(খ) পেঁপে থেকে দুধের মত এক প্রকার রস বের হয়। এটি ত্বকে লাগলে এলার্জি বের হতে পারে।

Leave a Reply